তাহসান রহমান খাঁনের বয়স, ওজন, উচ্চতা, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, অভিনয়

তাহসান রহমান খাঁনের বয়স, ওজন, উচ্চতা, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, অভিনয়

তাহসান রহমান খান যাকে আমরা তাহসান বলে জানি। তাহসানকে নিয়ে লিখতে গেলে দুটি ঘটনা ঘটে। প্রথমত তার অতীত সাফল্যকে অস্বীকার করা যায় না দ্বিতীয়ত কিছু মানুষের তাকে ঘিরে তাচ্ছিল্যকেও খেয়াল করতে হয়। দ্বিতীয় বিষয়টা তার জীবনের একটা মোড়ের কারণে দর্শক/সমালোচকদের মধ্যে গড়ে উঠেছে। তাই তাহসানকে নিয়ে বর্তমানে লিখতে গেলে মানসিক প্রস্তুতির দরকার পড়ে। প্রস্তুতিটা হচ্ছে মার্ক জুকারবার্গ প্রদত্ত ফেসবুকীয় মুহুর্মুহু হা হা রিঅ্যাক্টের জোয়ার ও সস্তা তাচ্ছিল্যের কমেন্ট সহ্য করতে হবে।

তাহসানকে দেখলে অনেক গুণের একটা সমাহার চোখে পড়ে। একজন সফল তারকা হিসেবে তাকে মূল্যায়ন করার মানসিকতা নিয়ে ভাবলে কি কি চোখে পড়ে শুধু নজর রাখতে হবে। কেউ যদি অস্বীকার করতে চায়ও তারপরেও চোখে পড়বে তার গুণগুলো। জোর করে এড়িয়ে গেলেও তাতে তার গুণগুলো মিথ্যে হবে না।
তাহসান রহমান খান (জন্ম ১৮ অক্টোবর ১৯৭৯) যিনি তাহসান নামেই সমধিক পরিচিত, বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় গায়ক, গীতিকার, সুরকার, গিটার বাদক, কী-বোর্ড বাদক, পরিচালক, অভিনেতা, মডেল এবং উপস্থাপক।

জন্ম ১৮ অক্টোবর ১৯৭৯ (বয়স ৪৩)

ঢাকা,বাংলাদেশ
জাতীয়তা  বাংলাদেশী
মাতৃশিক্ষায়তন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা
পেশা
  • শিক্ষক
  • গায়ক
  • অভিনেতা
  • সুরকার
  • সঙ্গীত পরিচালক
উচ্চতা ১.৭৫৩ মিটার (৫ ফুট ৯ ইঞ্চি)
দাম্পত্য সঙ্গী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা (বি. ২০০৬; বিচ্ছেদ. ২০১৭
সন্তান আইরা তাহরিম খান (মেয়ে)
পুরস্কার মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার (১ বার)
সঙ্গীত কর্মজীবন
ধরন
  • পপ
  • কান্ট্রি
  • আরএনবি
  • মেটাল
বাদ্যযন্ত্র
  • গিটার
  • পিয়ানো
  • ভোকাল
  • ড্রামস
লেবেল
  • জি-সিরিজ

তাহসান রহমান খাঁনের ব্যক্তিগত জীবন

তাহসানের পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলাকে। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি কন্যাসন্তানের বাবা হন। তার মেয়ের নাম আইরা তাহরিম খান। ২০১৭ সালের ২০শে জুলাই তাহসান তার স্ত্রী মিথিলার সাথে আসন্ন বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।
তাহসান পড়াশোনা করেন এ জি চার্চ স্কুলে ও সেন্ট যোসেফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৯৮ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে ব্যাচেলর (মার্কেটিং) ও মাস্টার (ফাইন্যান্স) ডিগ্রী লাভ করেন। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা কার্লসন স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টের উপর পড়তে যান এবং ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিগ্রী অর্জন করে দেশে ফিরে আসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন সবেমাত্র ভর্তি হয়েছি। একদিন পড়ন্ত বিকেলে জিমনেসিয়ামের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে তাহসানের ‘বিন্দু আমি’ গানটা গাইছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে বড়ভাইয়ের আওয়াজ এলো। বললেন-‘তুই কি জানিস গানটা এখানেই স্যুট করা হয়েছিল?’ চোখ দুটো বড় বড় করে বললাম-‘রিয়েলি!’ বললেন-‘হ্যা, গানটার ভিডিও আজকে আরেকবার দেখবি। আমাদের ক্যাম্পাসের জিমনেসিয়ামের রাস্তাটা চোখে পড়বে।’ যেই কথা সেই কাজ। অসংখ্যবার দেখা সেই গানটি ইউটিউবে সেদিন যেন সম্পূর্ণ নতুন করে দেখতে বসলাম আর অবাক হলাম নিজের ক্যাম্পাসকে দেখে। তারপর অনেকদিন জিমনেসিয়ামের পথ ধরে হাঁটার সময় অবচেতনে এই গানটিই ঠোঁটে চলে আসত। তখনকার তাহসানপ্রীতির মাত্রাটা ছিল এমনই। এই তাহসানপ্রীতি আমাদের সময়ে দেশের উঠতি প্রজন্মের নিত্যদিনের ঘটনা ছিল। তারপর যখন ‘আলো’ গানটা এলো এফএমরেডিওতে আল্লাহর তিরিশটা দিনই বাজানো হত। সে কি ক্রেজ গানের! ‘ব্ল্যাক’-এর তাহসানের আলাদা গুরুত্ব তো ছিলই। একটা প্রজন্মকে মৌলিক আধুনিক বাংলা গানের প্রতি মনোযোগী করতে তাহসানের অবদান কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে! তার গানের বাণী, সুর, গায়কী সবকিছুর মধ্যে একটা মার্জিত বিষয় আছে।

তাহসান কি শুধু নিজের জন্য গান করেছে! এই যে আজকে মিনার-কে দর্শকশ্রোতা এত পছন্দ করে, টলিউড থেকে তার গান করিয়ে নিচ্ছে সেই মিনারের ক্যারিয়ারেও তাহসানের অবদান আছে। ‘ডানপিটে’ অ্যালবামের অনবদ্য সেইসব গান কে ভুলতে পারে! ‘সাদা রঙের স্বপ্ন’ বলতে গেলে ছাত্রজীবনের অন্যতম সেরা গান, এ গানের সুর তাহসানের করা। মিথিলার কণ্ঠে ‘অগোচরে’ গানটাও তাহসানের সুর করা। মানুষটা কি শুধু নিজের জনপ্রিয়তার কথা ভেবেছে! বিজ্ঞাপন, রিয়েলিটি শো উপস্থাপনা, ট্যালেন্ট হান্টের বিচারক কত বৈচিত্রপূর্ণ কাজই তো করেছে তাহসান। কয়জন পেরেছে এতকিছু!

তাহসান রহমান খাঁনের পেশা ও অভিনয় জীবন

তাহসান ইউনিলিভারে ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের জুন পর্যন্ত ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১০ এর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন মার্কেটিং এ গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালের মে থেকে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বা ইউল্যাব-এ শিক্ষকতা করছেন। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন তাহসান।

তাহসান রহমান খাঁনের পুরস্কার সম্মাননা

তিনি ছায়ানট থেকে ছয় বছর রবীন্দ্রসংগীত শিখেছেন।১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ও আরো কয়েকজন যুবক মিলে গঠন করেন ব্যান্ডদল ব্ল্যাক, পরবর্তিতে তিনি ব্যন্ড দল থেকে আলাদা হয়ে নিজস্ব ধারার গানে সম্পৃক্ত হন। বিয়ের পর তাহসান, স্ত্রী মিথিলাকে নিয়ে বের করেন নিজস্ব এ্যালবাম। ২০১২ সালে তাহসান গঠন করেন তাহসান অ্যান্ড দ্য সুফিজ নামে নতুন একটি ব্যান্ড। বাংলামোটরে ‘কৃত্যদাসের আবাসে’ নামে তার নিজস্ব স্টুডিও রয়েছে।

তাহসান রহমান খাঁনের সঙ্গীত আয়োজন ও বিচারক ইত্যাদি

ব্ল্যাক ব্যান্ড ত্যাগ সম্পর্কে তাহসান বলেন,
“ ব্ল্যাক ব্যান্ডের সবাই এখনো আমার ভালো বন্ধু। আসলে ওঁরা অল্টারনেটিভ রক ধাঁচের গান করতে চেয়েছে। আর আমি স্লো ব্যালেড ধাঁচের গান করি। তাই আমি ওঁদের ইচ্ছাকেই সম্মান জানিয়েছি। নিজের ইচ্ছাকে জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইনি।

*বিঃদ্রঃ -আমাদের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভাল লেগে থাকে তাহলে লাইক,কমেন্ট, শেয়ার করে পাশে থেকে অনুপ্রেরণা যোগাবেন।এবং আরো নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে এসে কমেন্ট করে নিজের জানার ব্যকুলতাকে আরো বেগবান করবেন ধন্যবাদ ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *